রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

বাবর আজমের অনাকাঙ্ক্ষিত বিরল ‘হ্যাটট্রিকের’ রেকর্ড

দেশ স্পোর্টস ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:০৩ অপরাহ্ন

বাবর আজমের অনাকাঙ্ক্ষিত বিরল ‘হ্যাটট্রিকের’ রেকর্ড

নিউজিল্যান্ডের মাইকেল ব্রেসওয়েলের অফ স্টাম্পের বাইরে পড়া ডেলিভারিটি একটুও বাঁক নেয়নি। তবু রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে বাবর আজম এতটাই বাইরে চলে এসেছিলেন যে টম ল্যাথাম বল গ্লাভসে নিয়ে তাড়াহুড়া না করেই স্টাম্প ভাঙতে পেরেছেন। ফেরার চেষ্টাই করতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক। ফিরে যাওয়ার সময় কয়েকবার তাকালেন পিচ আর স্টাম্পের দিকে। যেন ভাবছিলেন, কী এমন ভেলকিতে এভাবে আউট হলেন!

বাবরের চোখেমুখে অবিশ্বাস্য চাহনির আরেকটা কারণ ‘হ্যাটট্রিকের যন্ত্রণা’। শুক্রবার সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে যেভাবে আউট হলেন, একই কায়দায় আউট হয়েছেন আগের দুই ম্যাচেও। প্রথম ওয়ানডেতে গ্লেন ফিলিপসের অফস্পিনে, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইস সোধির লেগ স্পিনে। 

টানা তিন ওয়ানডেতে স্টাম্পড হয়ে একটি বিরল রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন বাবর। ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যাটসম্যান পুরো সিরিজের সব কটি ম্যাচেই স্টাম্পড আউট হলেন। 

বাবর ৯৫ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে এর আগে মাত্র একবারই স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। ২০১৮ এশিয়া কাপের সেই আউটটি ছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচেই তিনবার!

ওয়ানডেতে এক সিরিজে তিনবার স্টাম্পড আউট হওয়ার ঘটনা অবশ্য আরও তিনটি আছে। যার সূচনা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামকে দিয়ে। ১৯৯৬-৯৭-এ ত্রিদেশীয় সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনবার স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়েছিলেন ওয়াসিম। দুবার শেন ওয়ার্নের বলে, একবার স্টুয়ার্ট ল’র বলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে হওয়া সেই কার্লটন অ্যান্ড ইউনাইটেড সিরিজে ৮ ম্যাচ খেলেছিল পাকিস্তান।

এক সিরিজে তিনবার স্টাম্পিংয়ের দ্বিতীয় ঘটনাটিও কার্লটন অ্যান্ড ইউনাইটেড সিরিজে। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে হওয়া সেই সিরিজে ৩ স্টাম্পড হন নাসের হুসেইন। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুবার, মুত্তিয়া মুরালিধরন ও হাশান তিলকারত্নের বলে। একবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ার্নের বলে। এই সিরিজে নাসেরের দল খেলেছিল মোট ১০ ম্যাচ।

দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ৩ বার স্টাম্পিংয়ের প্রথম ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে জিম্বাবুয়ের স্টুয়ার্ট মাতসিকেনিয়েরি। ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তিনবার মুরালিধরনের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়েছিলেন।

এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ওয়ানেডেতে উইকেটকিপার ছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা, পঞ্চমটিতে তিলকারত্নে দিলশান। 

তবে এক সিরিজে তিনবার স্টাম্পড হওয়া প্রথম তিনজনকে সব দিক থেকেই ছাড়িয়ে গেছেন বাবর। তিন ম্যাচের সিরিজের সব কটিতে আউট হওয়ার পথে বোলার ছিল ভিন্ন তিনজন, উইকেটকিপার আবার একজনই।


সর্বশেষ

উপরে নিয়ে চলুন