মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২

আল থুমামা স্টেডিয়াম, যেন বিশালাকার এক টুপি

স্টেডিয়াম কথন

দেশ স্পোর্টস ডেস্ক

১৮ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

আল থুমামা স্টেডিয়াম, যেন বিশালাকার এক টুপি

‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। পৃথিবীর বৃহত্তম ক্রীড়াযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের অপেক্ষা ফুরিয়ে মরুর বুকে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। স্বাভাবিকভাবেই আয়োজনের দিক থেকে কোনো কমতি রাখেনি আয়োজক দেশ কাতার। এর মধ্যেই শেষ হয়েছে যাবতীয় প্রস্তুতি। প্রস্তুত নান্দনিক সব ভেন্যুও। কাতারের পাঁচটি শহরের আটটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বকাপ।

আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর অনিন্দ্য সুন্দর উদাহরণ হয়ে ওঠা স্টেডিয়ামগুলো যেনো মরুর বুকে ফুটন্ত একেকটি পদ্ম। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, স্টেডিয়ামগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। দেশটির তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কথা বিবেচনা করে স্টেডিয়ামগুলোকে করা হয়েছে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এবং পরিবেশবান্ধব।

কোথায় খেলবেন মেসি-রোনালদো-নেইমাররা— এ নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহের কমতি নেই। চলুন এক নজরে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক কাতারের সেই সব নান্দনিক স্টেডিয়ামগুলোতে। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্বে থাকছে আল থুমামা স্টেডিয়াম ।

আল থুমামা স্টেডিয়াম 

গত বছর আমির কাপের ফাইনাল দিয়ে আল থুমামা স্টেডিয়ামের  যাত্রা শুরু হয়। স্টেডিয়ামটির নকশা করেছেন কাতারি স্থপতি ইব্রাহিম এম জাইদাহ। স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হয়েছে কাতার তথা মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী টুপি ‘গাহফিয়া’র আদলে। দেশ ভেদে নাম হয়তো ভিন্ন, তবে মুশলিম বিশ্বের কমবেশি সবাই এই বিশেষ টুপির সঙ্গে পরিচিত। এ স্টেডিয়ামকে তাই দূর থেকে দেখলে যে কেউ মনে করবে একটি বিশালাকার টুপি যেন পড়ে আছে।

আট ভেন্যুর অন্যতম এ স্টেডিয়ামটি রাজধানী দোহা থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। স্টেডিয়ামটির আনুষ্ঠানিক নাম আল থুমামা স্টেডিয়াম হলেও, এটি আল সুমামা স্টেডিয়াম নামে বেশি পরিচিত— যে নামটি এসেছে কাতারের আল সুমামা নামক স্থানের কারণে। 

গ্লোবাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেম ট্রাস্ট (জিএসএএস) ৪-স্টার সার্টিফিকেশনকে লক্ষ্য করে এর আশেপাশের এলাকা পরিবেশগত এবং প্রাসঙ্গিক স্থাপত্যকে গুরুত্ব দিয়ে ডিজাইন ও নির্মাণ করা হয়েছে। প্রচলিত স্টেডিয়ামের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে যা সবুজ এলাকায় সেচের জন্য পুনর্ব্যবহার করা যাবে। চারদিকের ৫০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে একটি পার্ক তৈরি করা হয়েছে যার মধ্যে ৮৪ শতাংশ দেশীয় গাছ। ৪০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার এই স্টেডিয়ামটির নির্মাণ খরচ পড়েছে প্রায় ৩৪২ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বকাপ শেষে এখানে একটি মসজিদ ও একটি হোটেল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বকাপ শেষে এ স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যাও অর্ধেক কমিয়ে ফেলা হবে, যা দান করা হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। বিশ্বকাপের মোট ৮টি ম্যাচ গড়াবে এই মাঠে, যেখানে থাকবে ৬টি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ, শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে একটি করে ম্যাচ। 


সর্বশেষ

উপরে নিয়ে চলুন