গত বছরের অক্টোবরের নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
একই সঙ্গে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে হবে নির্বাচন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল এহসান আনুষ্ঠানিকভাবে পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসান গত নির্বাচন নিয়ে গঠিত এনএসসির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিসিবির বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসির কাছে সদ্য গঠিত অ্যাডহক কমিটির নাম এবং অনিয়ম তদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে।
দুই দিন আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে গিয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছিল কমিটি। তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে প্রমাণ পেয়েছে যে, বিসিবির নির্বাচন পুরোপুরি স্বচ্ছ ছিল না। এমনকি বর্তমান পরিচালকদের মধ্যেও একাধিকজন তদন্ত কমিটির কাছে এই অনিয়মের কথা স্বীকার করেছিলেন।
এনএসসির জরুরি বৈঠকের আগে গুঞ্জন ছিল ১৫ সদস্যের কমিটি হওয়ার। তবে শেষ পর্যন্ত তিন মাসের মেয়াদে ১১ সদস্য বিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকছেন তামিম ইকবাল। অ্যাডহক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজীম চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম, ফাহিম সিনহা।
১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে তামিম ইকবাল ছাড়াও আছেন আরও দুই সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন ও আতহার আলী খান। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বিএনপির সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।
মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ ও ইসরাফিল খসরু যথাক্রমে বিএনপির উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদের ছেলে।
কমিটিতে আরও আছেন প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান তানজিল চৌধুরী, ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি,
ইন্দিরা রোড ক্রীড়াচক্রের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালক ফাহিম সিনহা।
অক্টোবরের ওই বিতর্কিত নির্বাচনের পর ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, বিসিবি এমনিতেই নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। বর্তমান বোর্ডে টিকে ছিলেন মাত্র ১৭ জন পরিচালক। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পার না হতেই বোর্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ও বোর্ড ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন সাতজন পরিচালক। এবার এনএসসির হস্তক্ষেপে পুরো পর্ষদই বিলুপ্ত হয়ে গেল।