সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও চট্টগ্রামের করুণ দশা, কক্সবাজারের কাছে লজ্জাজনক হার

৭৩ রানে অলআউট চট্টগ্রাম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

০৪ নভেম্বর ২০২২, ১০:২৩ অপরাহ্ন

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও চট্টগ্রামের করুণ দশা, কক্সবাজারের কাছে লজ্জাজনক হার

জাতীয় ক্রিকেট থেকে বয়সভিত্তিক সব জায়গায় ধুকছে চট্টগ্রামের ক্রিকেট। চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগে চট্টগ্রাম দল টানা দুটি ম্যাচ হেরে যায়। শেষ ম্যাচে ফলোঅনে পড়েও কোনমতে লজ্জাজনক হার থেকে বাঁচে চট্টগ্রাম। বড়দের ক্রিকেটের মতো বেহালদশা ছোটদের ক্রিকেটেও। এবার তারা কক্সবাজারের কাছে মাত্র ৭৩ রানে অলআউট হয়ে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ক্রিকেটকে লজ্জা উপহার দেয়া হতাশার এ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় চাঁদপুর স্টেডিয়ামে। মাত্র ৭৩ রানে অলআউট এবং কক্সবাজার জেলার কাছে ৬ উইকেটে পরাজিত হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিত শেখ কামাল অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। 

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বান্দরবান জেলাকে ১১৮ রানে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে মৌলভীবাজার জেলা দলকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু শেষ ম্যাচে দুর্বল কক্সবাজার জেলা দলের কাছে মাত্র ৭৩ রানে অলআউট হয়ে লজ্জাজনকভাবে চার উইকেটে হেরে শেখ কামাল অনূর্ধ্ব-১৮ জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে চট্টগ্রাম।

যে কক্সবাজারের খেলোয়াড়দের এক সময় প্রতিপক্ষ চট্টগ্রামের নাম শুনলে ভয়ে বুক কাঁপতো, সেখানে ম্যাচের রেজাল্ট হয়ে গেছে উল্টো। চট্টগ্রাম জেলা দলকে লজ্জার হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।

চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে টস জিতে কক্সবাজার প্রতিপক্ষ চট্টগ্রামকে আগে ব্যাট করতে পাঠালে তারা মাত্র ৭৩ রানে অলআউট হয়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৮ রানে ইনিংস খেলেন তালহা জুবায়ের, সাদমান ১০, অতিরিক্ত ১৮। জবাবে ছয় উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পৌঁছে যায় কক্সবাজার।  চট্টগ্রামের ওয়াকি ২টি, জুনায়েদ, সাদমান, আশরাফুল ও সাব্বির ১টি করে উইকেট লাভ করে।

ক্রিকেটের উর্বর ভূমি নামে খ্যাত চট্টগ্রামকে সীমাহীন লজ্জায় ফেলে দেয়ার পেছনে টিম সিলেকশনে স্বজনপ্রীতি এবং কোচের স্বেচ্চাচারিতাকে দায়ী করছেন চট্টগ্রামের ক্রিকেটাঙ্গনের অভিজ্ঞরা। 

চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন ক্রিকেট সংগঠকদের সাথে আলাপে জানা যায়, এতদিন চট্টগ্রাম জেলা অনূর্ধ্ব ১৮ দলের কোচ ছিলেন বর্ষীয়ান প্রশিক্ষক তপন দে। কিন্তু তারেক হোসেন খানের বিদেশ যাওয়ার সুযোগে চট্টল ক্রীড়াঙ্গনের বিসিবির জেলা কোচের চাকরি বাগিয়ে নিয়ে মাহবুবুল করিম মিঠু একাই টিম সিলেকশনের দায়িত্ব বগলদাবা করে নিজের অ্যাকাডেমি এবং কোরামের কোচদের প্লেয়ার নিয়ে প্রাথমিক সিলেকশনেই চট্টগ্রামের পরীক্ষিত পারফর্মারদের বাদ দেন, যাতে নিজেদের ছেলেগুলোকে ফাইনাল টিমে সহজেই ঢুকানো যায়।

চট্টগ্রামের একজন সফল ক্রিকেট কোচ অনেকটা ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘একজন কোচ হিসেবে মিঠুর জন্য সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হলো, তিনি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে চট্টগ্রামের সেরা পারফর্মারটিকে একটি ম্যাচেও মাঠে নামাননি। গত চার মওসুম ধরে চট্টগ্রাম অনূর্ধ্ব ১৪ ও অনূর্ধ্ব ১৬ দলের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন হামযা মাহমুদ তামিম। গত মওসুমে বিসিবি ওয়েস্ট জোনে (চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম জেলা দলের শ্রেষ্টতম ব্যাটসম্যান তামিম বিভাগীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। নৈপুণ্যের সুবাদে তিনি বিসিবির হাই পারফর্ম্যান্স টুর্নামেন্ট ‘ওয়াইসিএল’ খেলার সুযোগ পান এবং দারুন ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করে ন্যাশনাল স্কোয়াডে ঢুকার পথ প্রশস্ত করেন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এই তামিমকে কোচ মিঠু একটি ম্যাচেও একাদশে রাখেননি।’

অন্যদিকে একজন অভিভাবক ক্ষোভের সাথেই বলেন, তপন দা’র অ্যাকাডেমির বলে চট্টগ্রামের সেরা ব্যাটসম্যানটাকে বেঞ্চে বসিয়ে রখে মিঠু চট্টগ্রামের কত বড় ক্ষতি করলেন তা যদি এবার সিজেকেএস কর্মকর্তারা বোঝেন। যে ক্রিকেটারটা তার অসদাচরণের জন্য চট্টগ্রাম লিগে প্রায় প্রতি মৌসুমেই শাস্তি পেয়েছেন বা সতর্কিত হয়েছেন তাকে জেলা ক্রিকেট কোচের দায়িত্ব দিলে ছেলেরা কি শিখবে সহজেই অনুমেয়। 


সর্বশেষ

উপরে নিয়ে চলুন