মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২

দক্ষিণ আফ্রিকা বিদায়ঘণ্টা বাজালো নেদারল্যান্ডস

ক্রীড়া প্রতিবেদক

০৬ নভেম্বর ২০২২, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

দক্ষিণ আফ্রিকা বিদায়ঘণ্টা বাজালো নেদারল্যান্ডস

সাত সকালে নেদারল্যান্ডস একটা অঘটনই ঘটিয়ে বসল। ১৩ রানে হারিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে, তাতে বিদায়ঘণ্টাও বেজে গেল দলটির। এই জয়ে বাংলাদেশের সামনে খুলে গেল সম্ভাবনার দুয়ার। এখন পাকিস্তানকে হারিয়ে দিতে পারলেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের শেষ চারে চলে যাবে লাল সবুজের দল।

কলিন অ্যাকারম্যান ঝড়ে ১৫৯ রানের লক্ষ্য দেয় ডাচরা। তারপর ১৪৫ রানে থামিয়ে দেয় প্রোটিয়াদের। সুপার টুয়েলভের প্রথম তিন ম্যাচে অজেয় থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা টানা দুটি হারে প্রায় ছিটকে গেলো।

এই হারে ৫ পয়েন্ট নিয়ে প্রায় ছিটকেই গেলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারত ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে। বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারাতে পারলে উঠে যাবে সেমিফাইনালে। দুই দলই সমান ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে তিন ও পাঁচে আছে। নেদারল্যান্ডস একই পয়েন্ট নিয়ে তাদের মাঝে।

সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার দারুণ সুযোগ থাকা এই ম্যাচে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা নিয়েছিলেন ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত। সাত সকালে পিচে ‘কিছু একটা’ দেখতে পেয়েছিলেন, সে কারণে একাদশে রাখা হয়েছিল বাড়তি পেসারও। 

তবে ডাচ ইনিংস শুরুর পর দুই ওপেনার স্টেফান মাইবার্গ আর ম্যাক্স ওডাউড মিলে শুরুটা দুর্দান্তই করেছিলেন। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে তুলে ফেলেছিলেন ৪৮ রান। মাইবার্গ আর ওডাউডের এই জুটি থামে ৫৮ রানে।

এরপরই টম কুপারের তোপের মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২টি করে চার আর ছক্কায় ১৯ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, তাতে ডাচ ইনিংস পায় বড় রানের দিশা। দলীয় ৯৭ রানে ওডাউড ফেরেন ৩১ বলে ২৯ রান করে, ১১২ রানে ফেরেন কুপারও। 

তার বিদায়ের পর আবারও গতি হারিয়েছিল ডাচরা। ১৫তম ওভারে কুপার ফেরার পরের দুই ওভারে দলটি রান তোলে মোটে ১১। তখন মনে হচ্ছিল, রানটা বুঝি ১৪০ ও ছোঁবে না ডাচদের!

৭ বলে ১ রান করা বাস ডি লিডার বিদায় নেন ইনিংসের ১৮তম ওভারে। এরপর থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পটা কেবলই কলিন অ্যাকারম্যান আর অধিনায়ক স্কট অ্যাডওয়ার্ডসের। শেষ ১৭ বলে দুজন তুলেছেন ৩৫ রান। অ্যাকারম্যান ৩ চার আর দুই ছক্কায় ২৫ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন, আর অ্যাডওয়ার্ডস দুই চারে ৭ বলে করেন ১২ রান। তাতেই ডাচরা পেয়ে যায় ১৫৮ রানের লড়াকু পুঁজি। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে ১৫৯ করতে হতো দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

দক্ষিণ আফ্রিকা সেটাই পারেনি। দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক আর টেম্বা বাভুমাকে খুইয়ে বসে পাওয়ারপ্লেতেই। এরপরেও সেই একই দৃশ্যের অবতারণা দেখেছে অ্যাডিলেড ওভাল। থিতু হয়ে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে এসেছেন সবাই। রাইলি রুশো, এইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলারদের কেউই ২৫ এর বেশি রান করতে পারেননি। দলীয় ১২০ রানে যখন সপ্তম ব্যাটার হিসেবে হাইনরিখ ক্লাসেন বিদায় নিচ্ছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয়টা নিশ্চিত হয়ে গেছে মূলত তখনই। 

তবু দলটির একটা মিরাকলের আশা ছিল তখনও। সেই কাজটা করতে পারেননি কেউ। 


সর্বশেষ

উপরে নিয়ে চলুন