ইস্পাহানি চট্টগ্রাম মাস্টার্স ক্রিকেটে নাইনটিজ উইলোর বিশাল জয়, জিতেছে চিটাগাং রয়েলসও

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২৫ মে ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন

ইস্পাহানি চট্টগ্রাম মাস্টার্স ক্রিকেটে নাইনটিজ উইলোর বিশাল জয়, জিতেছে চিটাগাং রয়েলসও

ম্যাচ সেরা পিটার ও রয়েলের হাতে পুরষ্কার তুলে দিচ্ছেন আরিফ উদ্দিন রাসেল ও নজরুল ইসলাম

মাঠ স্বল্পতার কারণে বিরতির পর আবারও মাঠে গড়িয়েছে চট্টগ্রাম ক্রিকেট আম্পায়ার্স এন্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত ইস্পাহানি চট্টগ্রাম মাস্টার্স টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসরের দুটি খেলা।  

এতে দিনের প্রথম খেলায় ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় নাইনটিজ উইলো। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের দেখা পায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন চিটাগাং রয়েলস। তারা ৭ উইকেটে হারায় হোয়াইট ফ্যালকনকে।

সোমবার (২৫ মে) চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম খেলায় টসে জিতে নাইটিজ উইলোকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় চট্টগ্রাম লিজেন্ডস। 

ব্যাট হাতে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন চট্টগ্রামের সাবেক দুই তারকা ক্রিকেটার পিটার ঘোষ ও মাহবুবুল করিম মিঠু। মাত্র ৫.১ ওভারেই ৪৩ রান তুলে ফেলেন তারা। ২০ বলে ২৩ রান করে মিঠু আউট হওয়ার পর ওয়ান ডাউনে নেমে আরও মেরে খেলতে থাকেন মাসুদ পারভেজ। মাত্র ২৪ বলে সমান ৩টি করে চার-ছয়ে ৪০ রান করে পিটার যখন আউট হন ততক্ষণে দলের রান গিয়ে দাঁড়ায় ১০১ রানে, তাও ৯.৫ ওভারে। 

পিটারের আউটের পর মাহমুদুল ইসলাম (১৭ রান), ইকবাল হোসেন (৯ রান) বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি মাসুদ পারভেজকে। এবারের আসরে নিজের প্রথম ম্যাচেই ঝোড়ো ফিফটি আদায় করে নেন মাসুদ পারভেজ। তিনি ৩৪ বলে ৩ চার ও ৪ ছয়ে ৫৩ রান করে আউট হওয়ার পর লিপন চৌধুরী ছোট ক্যামিও ইনিংসে দলের রান নিয়ে যান দুইশোর উপরে। লিপন মাত্র ৭ বলে ৩ ছক্কায় ২০ রান করেন। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে নাইনটিজ উইলোর তাণ্ডব গিয়ে থামে ২০৮ রানে। ওই সময় অধিনায়ক নিয়াজুদ্দিন ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম লিজেন্ডের শফিক ২টি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া, ১টি করে উইকেট লাভ করেন ইমতিয়াজ, মাহাফুজ, জনি ও নাজমুল। 

২০৮ রান তাড়া করতে নেমে মারাত্মক ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে চট্টগ্রাম লিজেন্ড। তারা ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৬১ রানে গুটিয়ে যায়। দলের পক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটার মাহফুজ (২২ রান) ছাড়া আর কেউ দু’অঙ্কের ঘরেও পৌঁছাতে পারেননি। তাদের করা রানগুলো পাশপাশি লিখলে টেলিফোনের ডিজিট বলেই ভ্রম হবে। 

বল হাতে নাইটিজ উইলোর পিটার ঘোষ ৪ ওভার বল করে মাত্র ৬ রান দিয়ে তুলে নেন ৬ উইকেট। পিটারের ৪ ওভারের মধ্যে ৩ ওভার থেকে কোন রানই নিতে পারেননি লিজেন্ডের ব্যাটাররা। এছাড়া, নিয়াজ নেন ২ উইকেট। 

ব্যাটে-বলে ঝলক দেখিয়ে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার বাগিয়ে নেন পিটার। তার হাতে পুরষ্কার তুলে দেন সিনিয়র ব্যাংকার ও চট্টগ্রাম ক্রিকেট আম্পায়ার্স এন্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশনের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক আরিফ উদ্দিন রাসেল।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১২২ রানে গুটিয়ে যায় হোয়াইট ফ্যালকন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩ রান আসে রাজিবের ব্যাট থেকে, ২১ রান আসে অতিরিক্ত খাত থেকে। এছাড়া, অন্যান্য ব্যাটারদের মধ্যে সুজন দাশ ১৩, মাসুম ১২, আসাদ ১২ ও রাজিব ১১ রান করেন। 

চিটাগাং রয়েলসের হয়ে বল হাতে ‘দশে মিলে করি কাজ’ অনুসরণ করে প্রায়ই সবাই উইকেটের দেখা পান। এরমধ্যে রঞ্জিত ৩টি, রিপন, প্রণব, নাজিম, মিটু ও শাকি প্রত্যেকে ১টি উইকেট নেন। 

জবাবে, চিটাগাং রয়েলসের উদ্বোধনী ব্যাটার রয়েল দাশ গুপ্তের অনবদ্য ফিফটি ও সাকিবুর রহমানের হার না মানা ৩৩ রানের সু (২৮ বলে) বাদে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয় পেয়ে যায়। রয়েল ৩৯ বলে ৩ চার ও ৪ ছয়ে ৫৩ রান করেন। এছাড়া, ডালিম ১৬ ও সৌরভ ১৩ রান করেন।

হোয়াইট ফ্যালকনের ইমরান, মাসুম ও খোরশেদ উইকেট তিনটি দখল করেন।

ম্যাচ সেরা রয়েলের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম ক্রিকেট আম্পায়ার্স এন্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

ঈদুল আযহার বিরতির পর আগামী ৫ জুন থেকে পুনরায় শুরু হবে টুর্নামেন্টের খেলাসমূহ।


সর্বশেষ

উপরে নিয়ে চলুন